• Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1

রাজশাহী: শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮

মাদক ব্যবসায়ীর মটরসাইকেল বিক্রি করে ভাগ-বাটোয়ারা

রাণীনগরে থানা পুলিশের কান্ড
রাণীনগর প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর থানাপুলিশ হেরোইন ব্যবসায়ীর মটরসাইকেল আটকের এক সপ্তাহ দিন পর জনৈক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ হেরোইন ব্যবসায়ীকে জেল হাজতে প্রেরণ করলেও তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া এ্যাপাচি আরটিআর মডেলের প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের মটরসাইকেলটি জব্দ তালিকায় না নিয়ে ঘটনার এক সপ্তাহ পর গোপনে রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সিদ্দিকুর রহমান ও এসআই তরিকুল ইসলামের মধ্যস্থতায় জনৈক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে বলে এলাকায় ব্যাপক গুনঞ্জন চলছে।
জানা গেছে, রাণীনগর থানাপুলিশের নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান চলাকালীন সময়ে গত ৩ মার্চ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার এসআই তরিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলার নগর ব্রীজের দক্ষিন পার্শ্বে রাস্তার উপর থেকে কুজাইল গ্রামের মাওলানা আব্দুস সালামের ছেলে ও দূর্গাপুর মসজিদের পেশ-ইমাম মাওলানা কেফায়েত হোসেন (২৪) কে দেহ তাল্লাশি করে ৪৪২ পুড়িয়া হেরোইনসহ একটি এ্যাপাচি আরটিআর মডেলের প্রায় দুইলাখ টাকা মূল্যের নতুন মটরসাইকেল আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
এসময় হেরোইন ব্যবসায়ীর মূলহোতা উপজেলার কুজাইল দক্ষিণপাড়া গ্রামের আব্দুর গফুরের ছেলে হেলাল হোসেন ওই গাড়িতে থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি। এর পিছনেও রয়েছে অর্থ বানিজ্যের গোপন আতাত। রাণীনগর থানাপুলিশ রহস্যজনক কারণে হেরোইনের পরিমাণ জব্দ তালিকা যথারীতি করলেও মটরসাইকেলটি ওই তালিকার বাহিরে রাখা হয়।
এ ব্যাপারে রাণীনগর থানার এসআই তরিকুল ইসলাম বাদি হয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে একটি মামলা দায়ের করে। পরদিন ৪ মার্চ আটককৃত কেফায়েত হোসেনকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
আসামির স্বজনরা থানায় যোগাযোগ করলে চার্জসিট হালকাসহ নানান সহযোগীতার আশ্বাসের নামে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। চাহিদা মত এত টাকা কেফায়েতের গরিব পিতার পক্ষে দেওয়া অসম্ভব হলে থানা থেকে টাকা জোগানোর পরামর্শ হিসেবে ওই মটরসাইকেলটি বিক্রয়ের কথা বলে। দাম-দরের এক পর্যায়ে রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সিদ্দিকুর রহমান ও এসআই তরিকুল ইসলামের মধ্যস্থতায় উপজেলার নিকাহ রেজিষ্টার কাজী বেলাল হোসেনের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
বিক্রির টাকার মধ্য থেকে ৭০ হাজার টাকা আসামী কেফায়েতের বাবা মাওলানা আব্দুস সালামকে দেওয়া হয়। বাকি টাকা পুলিশের মধ্যেই কম-বেশি করে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেওয়া হয়েছে বলে এলাকায় ব্যাপক গুনঞ্জন চলছে।
আসামীর পিতা আব্দুস সালাম জানান, আমি গরিব ও অতি সাধারণ মানুষ, আমাকে তারা সহযোগীতা করবে মর্মে মটরসাইকেলটি তারা বিক্রি করে আমাকে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছে। কত টাকা দিয়ে বিক্রি করেছে সেটাও আমি জানি না।
মটরসাইকেল ক্রেতা কাজী বেলাল হোসেন জানান, আমি ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়ে মটরসাইকেলটি গত ১০ মার্চ শনিবার থানা থেকে কিনেছি।
রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সিদ্দিকুর রহমান থানা থেকে মটরসাইকেল বিক্রির কথা অস্বীকার করে জানান, হেরোইন, রেজিষ্টেশন বিহীন মটরসাইকেলসহ আসামী কেফায়েত হোসেনকে ওইদিন আটক করে থানায় আনা হয়। পরে বৈধ কাগজপত্র মূলে তার পরিবারের কাছে মটরসাইকেলটি হস্তান্তর করা হয়েছে।