• Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1

রাজশাহী: শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

অগ্নিঝরা মার্চ

সানশাইন ডেস্ক: আজ ১৭ মার্চ মার্চ। একাত্তরের এইদিনে সকল বাঙালীর চেতনা স্থির ছিল একটি মাত্র লক্ষ্যবিন্দুতে যার নাম স্বাধীনতা। একাত্তরের উত্তাল এই দিনে পাকিস্তানের উর্ধতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। খোদ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থান করে নিশ্চিত হন এ অংশে কার্যত পাকিস্তানের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। বঙ্গবন্ধুর অঙ্গুলি হেলনেই চলছে সবকিছু। স্বাধীনতার প্রশ্নে বীর বাঙালীর অকুতোভয় সংগ্রাম আর রণপ্রস্তুতিতে পাক প্রেসিডেন্টের বুঝতে বাকি থাকে না পাকিস্তানের অখ-তা আর রক্ষা করা সম্ভব নয়।
তাই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণের পথ নেই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার। প্রতিটি বৈঠকেই বঙ্গবন্ধু বাঙালীর মুক্তি ও স্বাধীনতার প্রশ্নে আপোসহীন। ফলে পাকি সামরিক জান্তারা ভেতরে ভেতরে বাঙালী নিধনযজ্ঞ চালিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রামকে ভন্ডুল করার জঘন্য পরিকল্পনা আঁটতে থাকে। প্রতিদিনই পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য ও অস্ত্র- গোলাবারুদ মজুদ করা হয় বাংলাদেশে।
একাত্তরের ১৭ মার্চ ছিল বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫২তম জন্মদিন। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সমাজের সর্বস্তরের মানুষ মিছিল করে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাসভবনে গিয়ে তাদের প্রাণপ্রিয় নেতাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। সেদিন দুপুরে ধানমন্ডির বাসভবনে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে আসা স্বাধীনতাকামী বাঙালীর উদ্দেশে জন্মদিনের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- ‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় কামনা জনগণের সার্বিক মুক্তি।’
একাত্তরের এই দিন সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দ্বিতীয় দফা বৈঠকে মিলিত হন পাকি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে। বৈঠক প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। কড়া সামরিক প্রহরায় প্রেসিডেন্ট ভবনে এই বৈঠক হয়। এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তৃতীয় কেউ উপস্থিত ছিলেন না। বৈঠক শেষে দেশী-বিদেশী সাংবাদিকদের বঙ্গবন্ধু বলেন, আলোচনা এখনও শেষ হয়নি। তবে আলোচনার পরবর্তী সময়ও ঠিক হয়নি। আলোচনা চলছে। লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এর বেশি আর কিছু আমার বলার নেই।