• Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1

রাজশাহী: শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮

বাগমারায় গ্রামবাসী-পুলিশ সংঘর্ষ, ৯ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩০

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় নরদাশ ইউনিয়নের বাসুদেব পাড়ায় পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। সংঘর্ষে ৯ গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ ও ৪ পুলিশ সদস্যসহ ৩০ জন আহত হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন, বাসুদেবপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৪২), রিমা বেগম (২৫), পিয়ারুল ইসলাম (৩৮) লতিফা বেগম (২৯), আব্দুল মজিদ (৬০), মজনুর রহমান (৩৮), মমেনা বেগম (৩০), ছামেনা বেগম (২৮) ও শহিদুল ইসলাম (২৮)। এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে থেমে থেমে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বাসুদেবপাড়া গ্রামের তাছের আলী (৫০), ইয়ার বক্স (৫৫) ও জাবের আলী (৪৮)।
এলাকার লোকজন জানান, নরদাশ ইউনিয়নের জোকাবিলা মাছ চাষে ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন থেকে হাটমাধনগর গ্রামের লোকজনের সাথে একই ইউনিয়নের বাসুদেবপাড়া গ্রামের লোকজনের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। দ্বন্দ্ব মিমাংসার পূর্বেই হাটমাধনগর গ্রামের লোকজন বাসুদেবপাড়া গ্রামের লোকজনকে বাদ দিয়ে জোরপূর্বক জোকাবিলায় মাছের পৌনা অবমুক্ত করেন। মাছ ছাড়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি জানার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জনিয়ার এনামুল হক স্থানীয়ভাবে নিস্পত্তির আশ্বাস দেন। সেই মোতাবেক বাসুদেবপাড়ার লোকজন চুপচাপ থেকে যান। স্থানীয় সংসদ সদস্যের কথা কর্ণপাত না করে গতকাল শুক্রবার সকালে হাটমাধনগর গ্রামের লোকজন জোকাবিলার বাসুদেবপাড়ার খালের সুইচ গেটের মুখে লোহার খাঁচা তৈরী করে বিলের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করে।
বাসুদেবপাড়া গ্রামের লোকজন বাধা দিলে তারা সেখান থেকে সরে আসেন এবং পুলিশের সহযোগীতা নেন। পুলিশ হাটমাধনগর গ্রামের লোকজনের ডাকে ঘটনারস্থলে যান এবং গ্রামবাসীর বাঁধা সম্মুখিন হন। পুলিশ জোরপূর্বক সুইচ গেটের মুখে লোহার খাঁচা নামানোর চেষ্টা করলে বাসুদেবপাড়া গ্রামের নারী পুরুষ সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিহতের চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে গ্রামবাসী পুলিশের উপর চওড়া হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। গ্রামবাসী পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকলে পুলিশ গ্রামবাসীর উপর রাবার বুলেট ও গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে ৯ গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ হয়।
বাগমারা থানা পুলিশের দাবী গ্রামবাসীর হামলায় থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ ও উপপরিদর্শক (এসআই) শাহীন দেওয়ানসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ গ্রামবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এলাকার সচেতন মানুষ জানান, জোকাবিলা মাছ চাষকে কেন্দ্র করে গত তিন বছর থেকে এলাকার এক পক্ষের সাথে অন্য পক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ওই সব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাগমারা থানায় ও রাজশাহীর আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। জোকাবিলায় মাছ চাষকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রতিপক্ষের হামলায় জোকাবিলা মৎস্য চাষ সমবায় সমিতির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আনছার আলী নিহত হন। দিবালোকে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে মাধনগর বাজারে কুপিয়ে হত্যা করে।
ওই ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামী করে বাগমারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত আনছার আলী ছেলে মহসীন আলী। ওই ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও আতংকের সৃষ্টি হয়। বিলে মাছ ছাড়া থেকে এলাকার লোকজন বিরত থাকলেও কথিপয় স্বার্থান্মেষী ব্যক্তির কারণে আবারো বিলে মাছ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৃষ্টির পানি বিলে জমলে শক্তিধর ব্যক্তির ইন্দনে বিলে মাছ ছাড়া হয়। মাছ ছাড়ার পর থেকেই এলাকার লোকজনের মধ্যে আবারো গ্রুপিং সৃষ্টি হয়।
এদিকে এই ঘটনায় পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য সংঘর্ষের পর পরই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ বলেন, গ্রামবাসীর হামলায় তিনিসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ৩ গ্রামবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। ওই ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।