• Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1

রাজশাহী: শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

এবার তার নির্বাচনী প্রচারেই মাদক সম্রাঞ্জী!

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনী প্রচারণার শুরুর দিক থেকেই স্থানীয় বিএনপি ও রাসিকের মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দাবি জানিয়ে আসছে এবারের নির্বাচনে কালোটার পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ডের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের প্রচারণায় ব্যবহার করছে আওয়ামী লীগ সমর্থীত মেয়র প্রার্থী। তবে এবার স্বয়ং বুলবুলের নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা মিললো নগরীর চিহ্নিত এক মাদোক সম্রাঞ্জীকে। ধানের শীষের পক্ষে ভোটের প্রচারে নামা তালিকাভুক্ত শীর্ষ এই মাদক ব্যবসায়ী ৩৩বছন বয়সী লায়লা সুলতানা লিজা। সূত্র মতে শুধু লিজাই নয় তার স্বামী ও দুই বোনও মাদক ব্যবসায় সাথে সম্পৃক্ত।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছে, যখন দেশজুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চলান হচ্ছে ঠিক তখন রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের প্রচারে অবাধে অংশ নিচ্ছেন স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী লিজা।
বুধবার সকালে নগরীর ডাশমাড়ি এলাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে দেখা যায় এই লিজাকে। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, সাংগঠনিক সম্পাদক রহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাদিম মোস্তফা। তারা নগর বিএনপির সভাপতি ও মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। সময় লিজা এই নেতৃবৃন্দের সাথে উপস্থিত থেকে লিফলেট বিলি করেন। পরে বিএনপির এই শীর্ষ নের্তৃবৃন্দে পেছনে দাড়িয়ে তিনি ফটোসেশনে অংশনেন।
বিএনপির স্থানীয় সদ্যস্যদের দেয়া তথ্য মতে, লিজা একসময় রাজশাহী জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তিনি বর্তমানে বিএনপির জেলা কমিটির সদস্য। মাদকে সম্পৃক্ততার কারণে দল থেকেই তাকে কোনঠাসা কোরে রাখা হয়েছে।
এদিকে লিজান স্বামী মনিরুল ইমলাম, বোন জুথি ও শীলা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। তাদের প্রত্যের নামেই রয়েছে একাধিক মামলা। তার বোন জুথি ও শীলা পুলিশের আহ্বানে আত্মসমর্পণ করে মাদক ব্যবসা ছেড়ে এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসলেও লিজা আত্মসমর্পণ করেননি।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে জাদুঘর এলাকা থেকে মাদকসহ তিনি গ্রেফতার হন। সেই সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে তিনি আহতও হন। এমনকি বিএনপি ক্ষমতায় থাকা কালে ২০০৫ সালেও তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকায় অতীতে তিনবার গ্রেফতার হয়েছেন লিজা। রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন থানায় সাতটি মামলার আসামি তিনি। মাদকের ছয় মামলার সবক’টি মামলায় লিজা এজাহারভুক্ত আসামি। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিটও হয়েছে। ইয়াবার কারবারের অভিযোগে তিনটি, ফেনসিডিল ব্যবসার অভিযোগে দুটি এবং গাঁজা বিক্রির অভিযোগে রয়েছে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা। তিনি মহানগর ও জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী বিএনপির অনেকেই জানিয়েছেন, বিতর্কিত নেতানেত্রীদের ভোটের প্রচার থেকে দূরে রাখার দলীয় সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে দলের একটি অংশের প্রশ্রয়ে তারা ভোটের প্রচারে নেমেছেন। এতে ভোট বৃদ্ধির চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমান উল্লাহ বলেন, লিজার পুরো পরিবার মাদক ব্যবসায় যুক্ত। তার দুই বোনও একই কাজে যুক্ত ছিলেন। তবে ওই দুইজনা মাদক ব্যবসা ছেড়েছেন। লিজা এখনও মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকের ছয়টিসহ সাতটি মামলা রয়েছে। সব মামলাতেই তার বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়েছে। .
এদিকে লিজার দাবি, তিনি মাদক ব্যবসায়ী নন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। বিরোধী দলের রাজনীতি করার কারণেই তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দিয়েছে পুলিশ।