• Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1

রাজশাহী: শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

লিটনের প্রচারণায় গণজোয়ার, আবারো সেনা মোতায়েন দাবি বুলবুলের

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে প্রচারণা শুরুর দিনেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন পরিচ্ছন্নভাবে ১৪ দফার ইশতেহার ঘোষণা করে ভোটের মাঠে নামায় গণজোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে ইশতেহারহীন প্রচারে নেমেছেন বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। আর ৯ দিন পরেই সিটি ভোট অথচ এখনো কোনো ইশতেহার নেই বুলবুলের। নগরী নিয়ে তার কোনো পরিকল্পনাও নেই। এ ক্ষেত্রে খায়রুজ্জামান লিটনের ভবিষ্যত উন্নয়ন পরিকল্পনা নগরবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার জাগালেও বিরুপ প্রভাব পড়েছে বুলবুলের প্রচারে।
নগরবাসীর বক্তব্য, আওয়ামী লীগ প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, নগর উন্নয়নে তার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। নগরীকে সাজানোর কথা বলেছেন। কর্মসংস্থার সৃষ্টি করে বেকার সমস্যার সমাধানের স্বপ্ন দেখছেন। তবে বিএনপি প্রার্থীর ভবিষ্যত পরিকল্পনায় নাই। ভোটাররা বলছেন, সুনির্দিষ্ট ইশতেহার ঘোষণা করায় এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন তার অবস্থান পরিস্কার করলেও এখনো অন্ধকারে রয়েছেন বুলবুল। বুলবুলের পক্ষ থেকে আপাতত ইশতেহারের কোনো পরিকল্পনা নাই বলে জানা গেছে। এ কারনে ভোটের মাঠে এবার শুরু থেকেই সোচ্চার হয়েছেন সব ধরনের সাধারণ ভোটার। একই কারনে ভোটের মাঠেও ভোটারদের কাছে নানা প্রশ্নের সম্মুখিন হচ্ছেন বুলবুল। ভোটারদের প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারছেন না।
এ অবস্থায় নির্বাচন নিয়েই ভাবছেন বুলবুল। আগামী পরিবকল্পনা নিয়ে তার কোনো চিন্তা নেই। তার বক্তব্য তিনি শুধু সযোগ চান। জনগন ভোট দিলে চলমান উন্নয়ন ধরে রাখবেন। এজন্য লিখিত কোনো ইশতেহারের দরকার নেই বলেও বলছেন তিনি। ইতিমধ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিবেশকে ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি’ বলে আখ্যায়িত করে সেনাবাহিনী মোতায়নের দাবি জানিয়েছেন বুলবুল। আর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন দাবি করেছেন নির্বাচনে কালো টাকা প্রতিরোধে পদক্ষেপ।
লিটন বলেন, ‘কালো টাকা কাদের আছে। কালো টাকার মালিকরা কাদের সঙ্গে আছে, কাদের কালো টাকা নিয়ে রাজশাহীতে জালাও পোড়াও করে, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা এবং হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে দেশের রাজনীতিকে অন্যদিকে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, সরকারের পতন ঘটিয়ে অন্যভাবে দেশে অরাজগত সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল, মানুষ তা জানে। লিটন বলেন, ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন কেন্দ্র করে সম্প্রতি মোটা অংকের কালো টাকা লেনদেন হয়েছে। সেই কালো টাকা যেন ভোটের মাঠে বা ভোটাদের মাঝে দিতে না পারে এটি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
শুরু থেকেই ভোটের মাঠে লিটন শক্ত অবস্থানে থাকলেও বুলবুল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন-এটিই প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। সুযোগ পেলে নগরীর চেহারা বদলে দেবেন এমন প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন বুলবুল।
নগর আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, ব্যক্তি ইমেজ এবং পারিবারিক ঐতিহ্যে বুলবুলের চেয়ে এগিয়ে লিটন। এসব সামনে রেখেই চলছে নৌকার প্রচারণা। নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন তিনি।
শুরু থেকেই নগর ও জেলা আওয়ামী লীগের সব পর্যায়ের নেতারা লিটনের পাশে থেকে কাজ করছেন। ভোটের মাঠে বেশ সক্রিয় আওয়ামী সমর্থিত পেশাজীবী সংগঠগুলো। বিভিন্ন আঞ্চলিক সমিতিও অংশ নিচ্ছে নৌকার প্রচারণায়।
আচরণবিধি বাধা হওয়ায় লিটনের পাশে থাকছেননা দলের স্থানীয় সংসদ সদস্যরা। তবে নিজ নিজ এলাকায় থেকে নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন সংসদ সদস্যরা। বাড়িয়েছেন যোগাযোগ। সবমিলিয়ে শক্তিশালী নির্বাচনী নেটওয়ার্ক তৈরী হয়েছে লিটনের।
যদিও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের জানান দিচ্ছে ভোটের মাঠে বিএনপি নেতাকর্মীর সরব উপস্থিতি। দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু শুরু থেকেই বুলবুলের পাশে। এখন ভোটের মাঠে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে পোশাক শিল্প, চামড়া শিল্প, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক দ্রুত বাস্তবায়ন করে লক্ষাধিক মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন, রাজশাহী জুট মিল সংস্কার ও সম্প্রসারণ এবং ঐতিহ্যবাহী রেশম কারখানা ও রাজশাহী টেক্সটাইল মিল পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করার উদ্যোগ নেবেন। এক কথায় রাজশাহীতে আবারো বদলে দেবেন।
লিটন বলেন, সদ্য সাবেক মেয়র (বুলবুল) কোনো উন্নয়নই করতে পারেননি। শুধু তা-ই নয়, তিনি (লিটন) যা করে গিয়েছিলেন, তা-ও ধরে রাখতে পারেননি। মেয়রের ব্যর্থতার কারণে রাজশাহীর নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এবার মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তারা আর আগের ভুল করবে না, দল-মত নির্বিশেষে নৌকায় ভোট দেবে।
তবে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, মেয়র নির্বাচিত হলে ২০৫০ সাল নাগাদ রাজশাহীকে তিনি বিশ্বের অন্যতম সিটিতে পরিণত করবেন। অন্যান্য নাগরিক সেবা আরো জনবান্ধব ও প্রসারিত করবেন। যদিও তিনি লিখিত কোনো ইশতেহার দেন নি-তাই বুলবুলের এমন আকাশকুসুম কথা বিশ^াস করছেন না ভোটার রা।
লিটনের প্রচারণায় গনজোয়ার : এদিকে বৃহস্পতিবারেও সকাল থেকে ভোটের মাঠে থেকে গণসংযোগ চালিয়েছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। রাজশাহীর উন্নয়নের স্বার্থে নৌকায় ভোট চেয়ে বৃহস্পতিবার তিনি মহানগরীর ৩ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন। খায়রুজ্জামান লিটনের গণসংযোগ ও পথসভায় সাধারণ মানুষের ঢল নামে। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
বেলা ১১টায় মহানগরীর ৩নং ওয়ার্ডের দাশপুকুর মোড় থেকে গণসংযোগ শুরু করেন খায়রুজ্জামান লিটন। এরপর দাশপুকুর বউ বাজার, পূর্বপাড়া, বহরমপুর ও বন্ধগেট এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। পাড়া-মহল্লার বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে রাজশাহীর উন্নয়নের স্বার্থে স্বাধীনতা ও উন্নয়নের প্রতীক নৌকা মার্কায় ভোট চান এবং উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেন।
খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘শান্তি-সম্প্রীতির শহর রাজশাহীতে সৌর্হাদ্য ও সম্প্রীতির মাধ্যমেই নির্বাচনের দিন পর্যন্ত পার করতে চাই। সেজন্য আমি সেনা মোতায়নের পক্ষপাতি নই।
সেনা মোতায়েন দাবি বুলবুলের : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নির্বিঘ্নে ভোটাররা উপস্থিত হয়ে যাতে ভোট প্রদান করতে পারেন সেই নিশ্চয়তার জন্য ভোটের সাতদিন আগে সেনা মোতায়েন করার দাবী জানিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর লক্ষিপুর মোড় থেকে গণসংযোগের সময় সাংবাদিকদের কাছে এই দাবী জানান তিনি। বুলবুল বলেন, সাধারণ ভোটাদের আওয়ামী লীগের লোকজন ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। মাইকিং করতে বাধা প্রদান করছে। নির্বাচনী প্রচারণায় কর্মীদের বাধা এবং গালিগালাজ করছে। এই অবস্থায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাই নয় অতি উৎসাহী কিছু পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও তাদের সঙ্গে একাত্বতা ঘোষনা করে বিএনপি’র সকল কাজে বাধা প্রদান করছে। সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কালো টাকা ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বুলবুল। এসময় তার সঙ্গে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় উপস্থিত ছিলেন। গয়েশ^র বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী করতে সরকারকেই পদক্ষেপ গ্রহন করতে। বাংলাদেশে নির্বাচনের কোন পরিবেশ নাই।
বড় বড় ফেস্টুন অপসারণের নির্দেশ : রাজশাহী সিটি নির্বাচনের প্রচারণায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্ধারিত মাপের চেয়ে বড় আকারের ব্যানার-ফেস্টুনের ছড়াছড়ি। কেউ কম, কেউ বেশি; কিন্তু প্রায় সব প্রার্থীই এমন ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে নিজের প্রতীকের প্রচার চালাচ্ছেন। তবে এসব ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণের জন্য ইসি নির্দেশ দিয়েছে।
এ নিয়ে প্রার্থীদের ২৪ ঘণ্টা সময়ও বেঁধে দেয়া হয়েছে। তবে প্রচার শুরুর ৯ দিন পর ইসির এমন নির্দেশ ভালোভাবে নিচ্ছেন না অনেক প্রার্থী। তারা বলছেন, কোনো কোনো প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এসব অসঙ্গতিপূর্ণ ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে নগরীকে ভরে ফেলেন। ইতিমধ্যে তাদের প্রচার হয়ে গেছে। শুরুতেই এ নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়া রহস্যজনক।
কমিশনের পক্ষ থেকে এসব ব্যানার-ফেস্টুন সরিয়ে নেয়ার চিঠি প্রার্থীদের দেয়া হয়। নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সৈয়দ আমিরুল ইসলাম স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, অধিকাংশ মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীর ব্যানার-ফেস্টুন সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা-২০১৬ অনুযায়ী নির্ধারিত মাপ ৬০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৪৫ সেন্টিমিটার প্রস্থের চেয়ে বড়। এসব ব্যানার- ফেস্টুন ইসির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এগুলো আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে না নেয়া হলে প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।