• Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1

রাজশাহী: শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসন সমানে সমান আয়েন-আসাদ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী-৩ আসন। পবা ও মোহনপুর উপজেলার তিনটি পৌরসভা এবং ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আসনটি। সংগঠনিক দিক থেকে এক সময় বিএনপির ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিতি ছিল এ আসনের দুই উপজেলা। তবে ২০০৮ সালে আসনটি চলে যায় আওয়ামী লীগের দখলে। এর ধারাবাহিকতা রাখতে চায় আওয়ামী লীগ।
২০০৮ সালে আগে পবা উপজেলা ছিল সদর আসনের সঙ্গে। আর মোহনপুর-বাগমারা উপজেলা নিয়ে ছিল একটি আসন। প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ লোকের এই আসনে ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-দলীয় এমপি ছিলেন। ২০০৮ সালে রাজশাহী সদর আসন থেকে আলাদা হওয়ার পর দুই মেয়াদ ধরে আসনটি সংসদ সদস্য হয়েছেন আওয়ামী লীগের।
এই আসনের বড় একটি অংশ রাজশাহী সিটি করপোরেশনের চারপাশ ঘিরে আছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় এটি সব রাজনৈতিক দলের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এ সংসদীয় আসন ঘিরে স্বপ্ন দেখছেন আওয়ামী লীগের অন্তত হাফ ডজন নেতা। যাদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক ছাত্র নেতা ও তরুণ সাংসদ আয়েন উদ্দিন ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। তবে পিছিয়ে নেয় জেলা কৃষকলীগের সভাপতি রবিউল আলম বাবু।
তারা ছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি বেগম আখতার জাহান, সাবেক এমপি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা এবং পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ইয়াছিন আলী।
২০০৮ সালে গঠিত এ আসনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা। তবে নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে ২০১৪ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়েন তিনি। বিএনপি বিহীন সে নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আয়েন উদ্দিন। সে নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী না হলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হন মেরাজ উদ্দিন মোল্লা। তিনি আয়েনের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দৌড়ে আয়েন উদ্দিন, আসাদুজ্জামান আসাদ ও রবিউল আলম বাবু মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন বলে মনে করেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। তিনজনেই কাজ করে যাচ্ছেন ভোটের মাঠে। তবে এদের মধ্যে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন আয়েন উদ্দিন।
জেলা কৃষকলীগের সভাপতি রবিউল আলম বাবু বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। রাজনৈতিক জীবনে বহুবার নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছি। কিন্তু রাজনীতি থেকে সরে যায়নি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশ, জাতি ও গণমানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে যাচ্ছি। আগামীতেও এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই। এ জন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনী রাজশাহী-৩ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবো।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সবার আকাঙ্খা থাকে সংসদ সদস্য হওয়া। এখানে আমিও ব্যতিক্রমী নয়। তাই আমি আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই। এর জন্য আমি রাজশাহীর-৩ আসনে সর্বদা মাঠে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি মাঠ পর্যায়ের জরিপে প্রার্থী দেয়া হলে আমি মনোনয়ন পাবো।’
এমপি আয়েন উদ্দিন বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরাও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আমি প্রতিবাদ করায় গ্রেপ্তার হই। সাড়ে তিন বছর জেলে ছিলাম। এর প্রতিদান হিসেবে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা আমার ওপর আস্থা রেখে ২০১৪ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন দেন। গত সাড়ে চার বছরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড আবার আমাকে মনোনয়ন দেবে আমার বিশ্বাস।’