• Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1

রাজশাহী: শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

পাটের দামে হাসির ঝিলিক

সরকার দুলাল মাহবুব : রাজশাহীর বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। দেশের এক সময়ের প্রধান অর্থকারী ফসল পাট চাষে কৃষক দুরাবস্থার সম্মুখীন হলেও এবারে পাটের বাজার অনেকটা ভাল থাকায় চাষির মুখে হাসির ঝিলিক দিচ্ছে। ঈদের আগে এমন দামে পাট বিক্রিতে চাষি পরিবারে লেগেছে আনন্দের দোলা।
চলতি পাট মৌসুমে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণী। অন্য বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকেরা পাট বিক্রি করে ভবিষ্যৎ স্বপ্ন পূরণে আশার আলো দেখছেন।
সরেজমিনে জেলার প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সময় মত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাট কেটে তা বিভিন্ন জলাশয়ে জাগ দিচ্ছে কৃষকেরা। চাষিরা পাট কেটে নদী, নালা, খাল, বিল ও ডোবায় জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং হাটে বাজারে তা বিক্রিসহ সব মিলিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার কোথাও কোথাও দেখা গেছে নারী-পুরুষের অংশ গ্রহণে পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে। তবে কৃষক খরচ বাঁচাতে রিবোন রেটিং পদ্ধতিতে আঁশ ছাড়ানোর জন্য কৃষি বিভাগ কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করলেও কৃষকরা তাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, এবারে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার প্রায় আট হাজার বিঘা (১০৯০ হেক্টর) কম জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। এবারে জেলা পাটচাষে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ হাজার ৯শ’ ১৫ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ৮শ’ ২৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৪৪ হাজার ২৮১ বেল (প্রতি বেলে প্রায় ২শ’ কেজি)।
জেলার বিভিন্ন বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। শুরুতে ভালো দাম পেয়ে চাষীরা খুশি। বর্তমানে বিভিন্ন হাট-বাজারে মানভেদে প্রতি মণ (৪০ কেজি) পাট বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৭শ’ টাকা থেকে দুই হাজার টাকায়।
গত বৃহস্পতিবার নওহাটা হাটে পাট বিক্রি করতে আসেন পবা উপজেলার আফিনেপালপাড়া গ্রামের মোসলেম উদ্দিন। তিনি বলেন, একবারে এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে লাঙ্গল, বীজ সেচ, কাটা, পরিস্কার করা, সারসহ যাবতীয় খরচ হয়েছে সাড়ে সাত থেকে আট হাজার টাকা। এবার উৎপাদন হচ্ছে ৮ থেকে ১০ মণ। বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১৩ হাজার টাকা থেকে ১৬ হাজার টাকায়।
দুয়ারী গ্রামের হেফাজ উদ্দিন জানান, জমিতে পানি না থাকায় পাটগাছ কাটা শ্রমিক খরচ কম হয়েছে। গতবার জমিতে পানি থাকার একদিকে শ্রমিক খরচ বেশী এবং অন্যদিকে দাম না থাকায় পাট চাষ করে লোকসান গুণতে হয়েছে। এবার লোকসান হবে না বলে তিনি জানান। বর্তমান বাজারে মানভেদে প্রতি মণ পাটের দাম এক হাজার ৭শ’ থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পাট ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান বলেন, নওগাঁয় প্রতিমণ পাটের দাম রাজশাহীর তুলনায় বেশী। কারণ হিসেবে তিনি বলেন এ এলাকার পাটের মান ভালো না হওয়ার কারনে দাম তুলনামূলক কম পায় চাষীরা।
মৌগাছি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক (কৃষি) নুরুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে খাদ্য বিভাগ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান পাটের ব্যাগ ব্যবহার করে না। যদি সার কারখানা, চিনিকল, সিমেন্ট কারখানা, চাল ও আটাসহ বেশিরভাগ কারখানার পণ্য সরবরাহ করা হলে পাটের দাম আরও বাড়ত বলে মনে করেন তিনি। আবার বিভিন্ন পণ্যের মোড়কের জন্য দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে যেত না। বেঁচে যেত দেশীয় পাট শিল্প।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মনজুরে মাওলা বলেন, পাটের জমিতে কিছু পানি থাকলে আঁশের কোনো ক্ষতি হয় না। তবে অপরিপক্ক পাট কাটলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। বর্তমান বাজারে ওঠা পাটগুলো হয়তো পরিপক্ক হওয়ার আগে কাটা হয়েছে ফলে ফলন কিছুটা কম হচ্ছে। এছাড়া পাট ব্যবসায়ীরা পুরোপুরি পাট কিনতে লাগলে দাম আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালী জানান, রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট আবাদে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হলেও তারা বিষয়টিকে নানা ঝামেলার কথা মনে করে গ্রহণ করছে না। তিনি জানান, আবহাওয়াগতভাবে রাজশাহী অঞ্চল পাট আবাদের জন্যে উপযোগী, ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা পেলে কৃষকরা আরো বেশি পাট আবাদে আগ্রহী হবে।