• Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1

রাজশাহী: শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮

পুঠিয়ার দুই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থিদের মধ্যে প্রতিক বরাদ্দ

পুঠিয়া প্রতিনিধি: নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পুঠিয়ার আলোচিত দুই ইউনিয়নের বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচন হতে চলেছে চলতি মাসের ২৯ তারিখ। দুই ইউপিতে মোট চেয়ারম্যান পদে ০৯ জন,ও সদস্য পদে ১২৫ জন প্রার্থী প্রতিদন্দিতা করতে যাচ্ছেন।
পরপর দুই বার তফসিল ঘোষনার পর তৃতীয় তফসিলে এসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই উপজেলার ভালুকগাছি ও শিলমাড়িয়া ইউনিয়ন দু’টিতে। চলতি মাসের ২৯ তারিখেই ভোট গ্রহন হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রির্টানিং অফিসার জয়নুল আবেদিন। গত ২০ শে ফেব্রুয়ারী নির্বাচন কমিশন সারা দেশের ৫৫ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করে। এর মধ্যে পুঠিয়ার ভালুকগাছি ও শিলামড়িয়া ইউনিয়নও ছিল।

৫৫ টির মধ্যে নাম থাকায়, ইউনিয়ন দুটিতে আবারো বইতে শুরু করে ভোটের হাওয়া। কিন্তু বার বার এ ভোটের হাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ইউনিয়ন দু’টিতে দু’বার তফসিল ঘোষনা হলেও ভোট গ্রহনের আগে দুইবারই নির্বাচন স্থগিত হয়। প্রথম দফায় ইউনিয়ন দু’টির ভোট গ্রহনের ৫ দিন আগে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করে শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের সাত নং ওয়ার্ড গোপাল পাড়া গ্রামের জহির উদ্দিন নামের এক শিক্ষক। এবং দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহনের ২৪ দিন আগে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে ফের উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করে এই বাসোপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জহির উদ্দিন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাবেক ছাত্রনেতা ও সদস্য পদের কয়েকজন প্রার্থী বলেন, এই জহির মাস্টার এলাকার এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির খুব কাছের ও ঘনিষ্ঠতম ব্যাক্তি। সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় আদালতে মামলা থাকায় উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের মধ্যে বানেশ্বরে ২২ বছর, এবং ভালুকগাছি ও শিলমাড়িয়ায় ১৫ বছর, ধরে স্থগিত রয়েছে নির্বাচন। আইনি জটিলতা কাটিয়ে গত বছরের ১২ নভেম্বর ভালুকগাছি ও শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করে নির্বাচন কমিশন। দুটি ইউনিয়নের প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীদের প্রার্থীতা যাচাই বাছাই শেষ হয় কিন্তু ভোট গ্রহনের ২৪ দিন পূর্বে আদালতের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।

এর আগে ২০১১ সালে প্রথম তফসিলে ইউনিয়ন দু’টির ভোট গ্রহনের ৫ দিন পূর্বে নির্বাচন স্থগিত হয়। অন্যদিকে সকল আইনি জটিলতা কাটিয়ে প্রথম দফায় ২০১১ সালে ভালুকগাছি ও শিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করে নির্বাচন কমিশন। ২৭ জুলাই ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করায় ভোট গ্রহনের ৫ দিন আগে ২২ জুলাই নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। আবারো আইনি জটিলতা কাটিয়ে ১৭ সালের ১২ নভেম্বর দ্বিতীয় বার তফসিল ঘোষনা হলে ভোট গ্রহনের ২৪ দিন আগে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করায় আবারো ৬ মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিত হয়।

ভালুকগাছি ও শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী তাকবীর হাসান ও আসাদুজ্জামান আবু হায়াত উচ্চ আদালতে রিটের ওপর আপিল করেন। আপিলের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এ দুটি ইউনিয়নের নির্বাচনের অনুমতি দেয়। ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছে ২৫ হাজার ৩’শ ৩৭ জন ও শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৬’শ ৬৯ জন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জয়নুল আবেদিন জানান, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আজ প্রতিক বরাদ্দের দিন। সকল প্রার্থীদের মাঝে প্রতিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মোট চেয়ারম্যান পদে ০৯ জন। সদস্য পদে শিলমাড়িয়ায় ৫৬ জন, ও ভাল্লুকগাছিতে পেয়েছেন ৬৯ জন। এছাড়া চেয়ারম্যান পদে শিলমাড়িয়ায় ০৩ জন, ভাল্লুকগাছিতে চেয়ারম্যান পদে ০৬ জন তাদের প্রতিক পেয়েছেন। চলতি মাসের ২৯ শে মার্চ ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।

এ সময় উপজেলা চত্তরে বিভিন্ন প্রার্থী ও তাদের অনুসারীদের মাঝে আনান্দ করতে দেখা যায়। শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের সদস্য পদের এক প্রার্থী বলেন, আমি ফুটবল প্রতিক পেয়েছি। অনেক নাটক হলো, এতে ভোটারদের মনোবল, ইচ্ছা,আগ্রহ কমে গেছে। এখন প্রতিক পেয়েছি, ভোটারদের মাঝে আবার আনান্দঘণ পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি এলাকায় আমনন্ত্রন জানান। উল্লেখ্য যে, ভালুকগাছি ইউনিয়নে আ’লীগের দলীয় প্রার্থী রয়েছেন তাকবীর হাসান ও বিএনপির প্রার্থী রয়েছেন তৌহিদুর রহমান এবং শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে আ’লীগের দলীয় প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন মুকুল ও বিএনপির আসাদুজ্জামান আবু হায়াত।

AG