• Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1
  • Meni 1

রাজশাহী: মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮

রাজশাহীতে আম গাছে মুকুলে ভরপুর গন্ধে মাতোয়ারা

Exif_JPEG_420

নাজিম হাসান:বরেন্দ্র অঞ্চল নামে খ্যাত কৃষি পণ্যের ভাণ্ডার হিসেবে ইতিপূর্বেই সুনাম অর্জন করেছে রাজশাহীর তানোর উপজেলা। এবারে উপজেলার মাঠ ঘাটে আম গাছে মুকুলে মুকুলে ভরে উঠেছে । আর মুকুলের গন্ধে মাতোয়ারা করে ফেলেছে এপ্রান্ত ওপ্রান্ত। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই শুধু আমগাছে মুকুলের সমারোহ । আমগাছ মুকুলে ভরে উঠেছে । এমন কোন গাছ নেই যে গাছে মুকুল নেই । ফলে বিগত বছরগুলোতে যেমন লোকসান গুনতে হয়েছে চলতি মৌসুমে মুকুল দেখে লাভের আসা দেখছেন চাষিরা । বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় উপজেলার প্রায় রাস্তার ধারে রয়েছে আমগাছ। রয়েছে শত বছরের স্মৃতি বিজড়িত আমগাছও । অন্য বছরগুলোতে শত বছরের আমগাছে মুকুল না এলেও এবারে এসেছে বাম্পার মুকুল ।

তানোর পৌর এলাকার ধানতৈড় মোড় হতে তালন্দ পর্যন্ত রাস্তার দু ধারে রয়েছে জেলা পরিষদের আমগাছ । আম গাছ গুলো গত বার টেন্ডার নিয়েছিলেন তালন্দ ইউপির মেম্বার নুরুল ইসলাম । তিনি জানান গত বারে জেলা পরিষদের গাছসহ বরেন্দ্র বিভাগের গাছ টেন্ডার নিয়ে লোকসান গুনতে হয়েছে। এবারে মুকুল এসেছে প্রচুর আবহাওয়া অনুকুলে থাকতে ফলন ভালো হবে এবং গতবারের লোকসান পুশিয়ে নেয়া যাবে বলে মনে করছেন তিনি । এদিকে পাচন্দর ইউপি এলাকার যোগিশো থেকে যশপুর পর্যন্ত রাস্তার দু ধারে রয়েছে বিশাল আকারের আমগাছ। রাস্তার দুধারে আমগাছের মুকুলের গন্ধে মাতোয়ারা করে ফেলেছে ।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান শুধু ওই রাস্তা না অনেক রাস্তায় ইউনিয়ন পরিষদের আমগাছ রয়েছে ।বিগত বছরের তুলনায় এবারে আমগাছে মুকুল এসেছে ব্যাপক হারে । আসা করছি বিগত বছরের লোকসান পুসিয়ে নিতে পারবেন চাষিরা । উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুর রহিম জানান আমার ব্যক্তিগত আমগাছ রয়েছে ১০০টির মত । আর কামারগা বাঁধে রয়েছে বড়াল সমিতির আমগাছ ১ হাজারের মত । যে কোন বছরের তুলনায় এবারে মুকুল এসেছে প্রচুর ।

আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আমের ফলন হবে বাম্পার বলে মনে করছেন তিনি । দীর্ঘ দিনের আম ব্যবসায়ী পৌর সদর ঠাকুর পুকুর গ্রামের উদ্দিন জানান গত দুই মৌসুম ধরে আমে লোকসান গুনতে হয়েছে । কিন্তু এবার ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে আম চাষিদের আশীর্বাদ হয়ে আকাশ থেকে নামে বৃষ্টি । এবৃষ্টির কারনেই আমগাছে এসেছে এত মুকুল । ছোট বড় মাঝারি সব ধরণের আমগাছে মুকুল এসেছে প্রচুর পরিমাণে । আসা করছি চলতি মৌসুমে আম বেচা কেনায় লাভের মুখ দেখতে পাব বলে মনে করছেন এচাষি । উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায় উপজেলায় ৩হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে আম গাছ রয়েছে প্রায় ৫৪ হাজারের মত । প্রতিটি গাছে এসেছে মুকুল । মুকুলের গন্ধে উপজেলার মাঠ ঘাট জমির ক্ষেত মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে । কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান মুকুল আসা নিয়ে এক প্রকার নিরাসায় ছিলেন চাষিরা ।

কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে আকাশের বৃষ্টির পানি আমগাছের মুকুল আসার আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল। ওই বৃষ্টির কারনে মুকুলে ভরে গেছে আমগাছ । আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে চাষিদের মুখে হাঁসি ফুটবে বলে মনে করেন তিনি । উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমরান আলী মোল্লার গুবিরপাড়াগ্রামের বাড়ি সংলগ্ন রয়েছে বিশাল আমবাগান । গাছগুলো মাঝারি প্রতিটি গাছে এত পরিমাণ মুকুল এসেছে গাছের পাতা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছেনা । মুকুলের রং সোনালী আকার ধারন করেছে । চেয়ারম্যান এমরান আলী মোল্লা জানান যে হারে মুকুল এসেছে একই ভাবে আম ধরলে গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়বে। দেখা যাক আবহাওয়া কোন দিকে যায় । আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ফলন হবে প্রচুর বলে জানান তিনি।

AG